Ad Code

Responsive Advertisement

Ticker

6/recent/ticker-posts

মাধ্যমিক শিক্ষার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য (মুদালিয়র কমিশন ১৯৫২-৫৩)

মাধ্যমিক শিক্ষার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে মুদালিয়র কমিশনের বক্তব্য আলোচনা করো। 

মাধ্যমিক শিক্ষার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে মুদালিয়র কমিশনের বক্তব্য আলোচনা করো।


    মাধ্যমিক শিক্ষার উন্নতির জন্য ১৯৫২ সালে ২৩ সেপ্টেম্বর মাদ্রাজ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডঃ লক্ষণ স্বামী মুদালিয়রের (সভাপতি) নেতৃত্বে মাধ্যমিক শিক্ষা কমিশন গঠিত হয়। এই কমিশনের মোট সদস্য সংখ্যা ছিল ৯ জন। ১৯৫৩ সালে ২৯ আগস্ট কমিশন ভারত সরকারের কাছে ৩১১ পৃষ্ঠা সংবলিত একটি দীর্ঘ রিপোর্ট পেশ করে। 

মাধ্যমিক শিক্ষার লক্ষ্য 

    কমিশন ভারতবর্ষের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার কথা বিবেচনা করে মাধ্যমিক শিক্ষার কয়েকটি লক্ষ্য স্থির করেন, সেগুলি হল নিম্নরূপ : 

  1. স্বয়ং সম্পূর্ণ শিক্ষা - প্রাথমিক ও উচ্চতর শিক্ষার মধ্যবর্তী অংশ হিসাবে মাধ্যমিক শিক্ষাকে একটি স্বয়ং সম্পূর্ণ শিক্ষা হিসাবে পরিগণিত করতে হবে। 
  2. দায়িত্বশীল নাগরিক তৈরি - গণতান্ত্রিক ভারতবর্ষের উপযোগী দায়িত্বশীল নাগরিক তৈরি করাই হবে মাধ্যমিক শিক্ষার প্রধান লক্ষ্য। তাই মাধ্যমিক শিক্ষাব্যবস্থাকে এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে যে শিক্ষা গ্রহণ করে শিক্ষার্থীরা একজন সুযোগ্য নাগরিকের দায়িত্ব ও কর্তব্য যথাযথভাবে পালন করতে পারে। 
  3. জীবিকা অর্জনের উপযোগী শিক্ষা প্রদান - মাধ্যমিক শিক্ষার রূপরেখা এমনভাবে তৈরি করতে হবে যাতে সেই শিক্ষা অর্জনের শেষে শিক্ষার্থীরা জীবিকা অর্জনের উপযোগী হয়ে উঠতে পারে। 
  4. চরিত্রবান মানুষ সৃষ্টি করা - উপযুক্ত ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন চরিত্রবান মানুষ গঠন করাই হবে মাধ্যমিক শিক্ষার অন্যতম লক্ষ্য। 
  5. সংস্কৃতি সম্পন্ন নাগরিক তৈরি - শিক্ষাব্যবস্থাকে এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে যাতে শিক্ষার্থীরা দেশীয় সাহিত্য, সংস্কৃতির প্রতি রুচিবোধ জাগ্রত হয়। 
  6. ধর্মনিরপেক্ষতার শিক্ষা - শিক্ষাব্যবস্থা এমন হবে যাতে করে শিক্ষার্থীরা ধর্মনিরপেক্ষ মনোভাব সম্পন্ন নাগরিক হিসাবে গড়ে ওঠে। 
  7. গণতান্ত্রিক মনোভাব সৃষ্টি - গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি শিক্ষার্থীদের মধ্যে যেন গড়ে ওঠে সে অনুযায়ী তাদের শিক্ষাদানের ব্যবস্থা করতে হবে। 
  8. নেতৃত্ব দানের যোগ্যতা তৈরি - মুদালিয়র কমিশন মনে করে, গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা একজন সৎ, শৃঙ্খলা পরায়ণ, দায়িত্বশীল যোগ্য নেতার উপর নির্ভরশীল। তাই উপযুক্ত নেতৃত্বদানের এই গুণগুলি শিক্ষার্থীরা যাতে মাধ্যমিক স্তরেই অর্জন করতে পারে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। 
  9. বয়ঃসন্ধিকালের শিক্ষাদান - মাধ্যমিক শিক্ষার্থীরা এইসময় বয়ঃসন্ধিকালের স্তরে অবস্থান করে। তাই তাদের ইচ্ছা-অনিচ্ছা, চাহিদার দিকে লক্ষ্য রেখে শিক্ষাব্যবস্থা পরিচালিত করতে হবে। 
  10. মানসিক গুণাবলীর বিকাশ - শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, কর্ম প্রেরণা, আগ্রহের মতো মানসিক গুণাবলীর বিকাশ যথাযথভাবে হয় সে হিসাবে পাঠ্যক্রম রচনা করতে হবে। 
  11. অর্থনৈতিক বিকাশে সহায়তা - শিক্ষাব্যবস্থা যাতে দেশের অর্থনৈতিক বিকাশে সহায়ক হয় সদিকে লক্ষ্য রেখে মাধ্যমিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। 
  12. নিরক্ষরতা ও কুসংস্কার মুক্ত সমাজ গঠন - মাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে এমনভাবে ঢেলে সাজাতে হবে যাতে আমাদের সমাজ নিরক্ষরতা ও কুসংস্কার মুক্ত সমাজ হিসেবে গড়ে ওঠে। 
  13. বাস্তব অভিজ্ঞতা সৃষ্টি - এই স্তরে এমন শিক্ষাব্যবস্থা গড়তে হবে যাতে শিক্ষার্থীরা সমস্যাসমাধানের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারে। 
  14. শিক্ষার আদর্শ পরিবেশ সৃষ্টি - বিদ্যালয়ের চলন্ত জীবনধারার সঙ্গে যাতে শিক্ষার্থীরা খাপ খাইয়ে নিতে পারে এবং সেখানে শিক্ষার আদর্শ পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারে সেদিকে বিশেষ লক্ষ্য রাখতে হবে।

Post a Comment

0 Comments

Ad Code

Responsive Advertisement