Ad Code

Responsive Advertisement

Ticker

6/recent/ticker-posts

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা কমিশনের সুপারিশ গুলি আলোচনা করো

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা কমিশন (১৯৪৮ - ১৯৪৯) -এর সুপারিশ

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা কমিশনের সুপারিশ গুলি আলোচনা করো



    আজকের পোস্টে আলোচনা করা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা কমিশনের সুপারিশ বা রাধাকৃষ্ণান কমিশনের সুপারিশ। এই কমিশনের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশগুলির মধ্যে একটি অন্যতম সুপারিশ ছিল গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয় গঠন। সে ব্যাপারেও এই পোস্টে আলোচনা করা হয়েছে।   

প্রশ্ন ) রাধাকৃষ্ণন কমিশনের সুপারিশ গুলি আলোচনা করো। (নম্বর - ৮)

উত্তর ⏩ ভারত সরকার ১৯৪৮ সালে ৫ই নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার উন্নতির জন্য বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা কমিশন গঠন করেন। এই সভাপতি ছিলেন ডঃ সর্বপল্লি রাধাকৃষ্ণান। কমিশনের মোট সদস্য সংখ্যা ছিল ১০ জন। ১৯৪৯ সালে ৭৪৭ পৃষ্ঠার একটি দীর্ঘ রিপোর্ট সরকারের কাছে পেশ করা হয়। এই কমিশনের মূল সুপারিশগুলি নিচে আলোচনা করা হল। 

1) শিক্ষার লক্ষ্য – কমিশনের মতে শিক্ষা প্রধান লক্ষ্যগুলি হবে - 
I. গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের উপযোগী শিক্ষার ব্যবস্থা, 
II. নেতৃত্বদানের উপযোগী মানুষ গড়ে তোলা, 
III. শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন, 
IV. জাতীয় সংহতি ও আন্তর্জাতিকতাবাদের শিক্ষা, 
V. বিজ্ঞান, কারিগরি, কৃষিবিদ্যা, চিকিৎসাবিদ্যার প্রসার ঘটানোর শিক্ষা ইত্যাদি। 

2) গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ধারণা – গ্রামের ছেলেমেয়েদের উচ্চশিক্ষা দানের জন্য কমিশন গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের সুপারিশ করেন। প্রতিবেদনে বলা হয় কয়েকটি বিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে গড়ে উঠবে একটি গ্রামীণ মহাবিদ্যালয় এবং কয়েকটি গ্রামীণ মহাবিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে গড়ে উঠবে একটি গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়। 

3) ছাত্র সংখ্যা - মহাবিদ্যালয় গুলির প্রতিটিতে ১৫০০ জনের বেশি এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে কলা ও বিজ্ঞান বিভাগ মিলিয়ে ৩০০ জনের বেশি থাকবে না। 

4) গ্রামীণ শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন স্তর – গ্রামীণ শিক্ষা পরিকল্পনায় ৪টি স্তরের কথা বলা হয়, সেগুলি হল - 

5) আদর্শ গ্রাম - কমিশনে উত্তর বুনিয়াদি তথা মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলিকে আবাসিক করার সুপারিশ করা হয় এবং প্রতিটি উত্তর বুনিয়াদি বিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে যাতে একটি আদর্শ গ্রাম গড়ে তোলা যায়, তার জন্য পরামর্শ দান করা হয়। 

6) বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার কাঠামো – বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য শিক্ষার্থীদের অবশ্যই বিদ্যালয় ও ইন্টারমিডিয়েট কলেজে ১২ বছর শিক্ষাক্রম শেষ করতে হবে। 

7) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন – নিম্নলিখিত ব্যক্তি ও কমিটি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গড়ে উঠবে – ১। পরিদর্শক (গভর্নর জেনারেল), ২। আচার্য (প্রাদেশিক গভর্নর), ৩। উপাচার্য, ৪। সেনেট, ৫। সিন্ডিকেট, ৬। অ্যাকাডেমিক কাউন্সিল, ৭। ফ্যাকাল্টিস, ৮। বোর্ড অফ স্টাডিজ, ৯। ফিনান্স কমিটি এবং ১০। নির্বাচন কমিটি। 

8) বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার পাঠ্যক্রম – কমিশন কলা বিভাগ ও বিজ্ঞান বিভাগ এবং বিভিন্ন পেশাগত শিক্ষার পাঠ্যক্রম সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ দান করেন। পেশাগত শিক্ষা ক্ষেত্রে কৃষি, বাণিজ্য, শিক্ষাবিজ্ঞান, কারিগরি, প্রযুক্তিবিদ্যা ও চিকিৎসাশাস্ত্র এই ৬টি বিষয়ের পাঠ্যক্রম সম্পর্কে সুপারিশ করেন।

9) স্নাতকোত্তর শিক্ষণ ও গবেষণা – কমিশন স্নাতকোত্তর শিক্ষণ এবং কলা ও বিজ্ঞান বিভাগের গবেষণার জন্য যেসব সুপারিশ করেন সেগুলি হল – M.A, MSc Course, Ph.D Degree, গবেষণামূলক শিক্ষণ, ফেলোশিপের ব্যবস্থা,D.Lit D.Sc Degree ইত্যাদি। 

10) পরীক্ষা ব্যবস্থা – সরকারী চাকরির জন্য পৃথক পরীক্ষার ব্যবস্থা, সর্বাঙ্গীণ বিকাশের মূল্যায়ন, অন্তিম পরীক্ষার পূর্বে কয়েকটি পরীক্ষার ব্যবস্থা, মৌখিক পরীক্ষার ব্যবস্থা, পাশ নম্বর – ১ম বিভাগের জন্য ৭০%, ২য় বিভাগের জন্য ৫৫% - ৬৯% এবং ৩য় বিভাগের জন্য কমপক্ষে ৪০% নম্বর পেতে হবে। অনুগ্রহ নম্বর (Grace Marks) দেওয়ার নীতি ত্যাগ করতে হবে। 

11) শিক্ষক – কমিশন বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪ ধরণের শিক্ষক নিয়গের সুপারিশ করেন। এরা হবেন প্রফেসর, রিডার, লেকচারার এবং ইনস্ট্রাক্টর। শ্রেণী অনুযায়ী বেতন নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়। প্রত্যেক শিক্ষকের অবসরের বয়স হবে ৬০ বছর। তবে কর্মক্ষমতা থাকলে অধিক ৪/৫ বছর শিক্ষকতা করতে পারবেন। 

12) শিক্ষার মাধ্যম – কমিশন ত্রি-ভাষা সূত্রের মাধ্যমে শিক্ষাদানের কথা বলেন। তথা ১। মাতৃভাষা, ২। সর্ব ভারতীয় ভাষা (হিন্দি) ও ৩। ইংরেজি। 

13) ছাত্র কল্যাণ ও শরীর চর্চা – বিনা খরচে স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা, N.C.C (National Cadet Corps) বিভাগ স্থাপন করতে হবে। 

14) ব্যয়নির্বাহ – University Grants Commission (UGC) গঠনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে অর্থ সাহায্যের ব্যবস্থা করতে হবে। 

15) রিফ্রেসার কোর্স প্রবর্তন – বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাদান কার্যকে উন্নতি করার জন্য অধ্যাপকদের জন্য রিফ্রেসার কোর্স প্রবর্তন করতে হবে। 

16) নতুন বিশ্ববিদ্যালয় গঠন ও অন্যান্য সংস্কার – দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নতুন নতুন বিশ্ববিদ্যালয় গঠন ও পুরাতন বিশ্ববিদ্যালয়গুলির নিয়মিত সংস্কারসাধন করতে হবে। 

17) নারী শিক্ষার প্রসার – দেশে নারী শিক্ষার প্রসার সাধনের জন্য আলাদা করে মহিলা বিশ্ববিদ্যালয় গঠন করতে হবে। 

18) গ্রন্থাগারের উন্নতি – কমিশন পুরনো গ্রন্থাগার গুলির উন্নয়ন এবং নতুন গ্রন্থাগার স্থাপনের কথা বলেছেন। 

19) ধর্মশিক্ষা ও নৈতিক শিক্ষার প্রবর্তন – ধর্মশিক্ষা ও নীতিশিক্ষার ক্ষেত্রে রাধাকৃষ্ণান কমিশনের মতে যান্ত্রিক সভ্যতার উন্নতিতে মানবচরিত্রের বিকাশ প্রয়োজন। আর তার জন্য শিক্ষার্থীদের ধর্মশিক্ষা ও নীতিশিক্ষা দানের কথা বলেছেন।

    বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা কমিশনের রিপোর্টটি নবভারত গঠনের পক্ষে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দলিল। গ্রামীণ শিক্ষা, ধর্মশিক্ষা ইত্যাদি সম্বন্ধে যেসব গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ কমিশন করেন তা বর্তমান যুগোপযোগী। 

তথ্যসূত্র : 

  • ঘোড়াই নিমাই চাঁদ; উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবিজ্ঞান; ABS Publishing House
  • ভট্টাচার্য দিব্যেন্দু, বর্মণ প্রনব; উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবিজ্ঞানের রূপরেখা; Nurture Publication
  • ইসলাম নুরুল;  উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবিজ্ঞান; শ্রীধর প্রকাশনী

বিশেষ দ্রষ্টব্য : লেখাটি আপনার পড়াশুনার ক্ষেত্রে কাজে লাগলে সোশ্যাল মিডিয়ায় অবশ্যই বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন। আর এই পোস্ট সম্পর্কিত আপনার কাছে নতুন কোনও তথ্য থাকলে কমেন্টের মাধ্যমে বা ইমেইল করে আমাদের জানান।

সতর্কবাণী : অ্যাডমিনের অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের যেকোনো লেখা কপি-পেস্ট করে অন্য কোনো ব্লগ, সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা এমনকি ছাপানোও নিষেধ। অন্যথায় আইনত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


Post a Comment

0 Comments

Ad Code

Responsive Advertisement