শিক্ষার ব্যক্তিতান্ত্রিক লক্ষ্য ও শিক্ষার সমাজতান্ত্রিক লক্ষ্য
![]() |
| শিক্ষার ব্যক্তিতান্ত্রিক লক্ষ্য ও শিক্ষার সমাজতান্ত্রিক লক্ষ্য বলতে কী বোঝ ? |
- শিক্ষার ব্যক্তিতান্ত্রিক লক্ষ্যে কাকে বলে ?
- শিক্ষার ব্যক্তিতান্ত্রিক লক্ষ্যের বৈশিষ্ট্য
- শিক্ষার ব্যক্তিতান্ত্রিক লক্ষ্যের সুবিধা
- শিক্ষার ব্যক্তিতান্ত্রিক লক্ষ্যের অসুবিধা
- শিক্ষার সমাজতান্ত্রিক লক্ষ্যে কাকে বলে ?
- শিক্ষার সমাজতান্ত্রিক লক্ষ্যের বৈশিষ্ট্য
- শিক্ষার সমাজতান্ত্রিক লক্ষ্যের সুবিধা
- শিক্ষার সমাজতান্ত্রিক লক্ষ্যের অসুবিধা
- শিক্ষার ব্যক্তিতান্ত্রিক ও সমাজতান্ত্রিক লক্ষ্যের সম্পর্ক
- শিক্ষার ব্যক্তিতান্ত্রিক ও সমাজতান্ত্রিক লক্ষ্যের মধ্যে পার্থক্য
শিক্ষা বিজ্ঞান একাদশ শ্রেণী প্রথম এই অধ্যায় থেকে যেমন প্রশ্ন হতে পারে, 👇
👉প্রশ্নঃ শিক্ষার ব্যক্তিতান্ত্রিক লক্ষ্য ও সমাজতান্ত্রিক লক্ষ্য বলতে কী বোঝ? এই দুই লক্ষ্যের মধ্যে সমন্বয় সাধন করা প্রয়োজন কেন ? ৪+৪ = ৮
শিক্ষার ব্যক্তিতান্ত্রিক লক্ষ্য বলতে কি বোঝো ?
শিক্ষার ব্যক্তিতান্ত্রিক লক্ষ্য বলতে সেই ধরণের শিক্ষাব্যবস্থার কথা বোঝায়, যে শিক্ষাব্যবস্থা ব্যক্তির সর্বাঙ্গীণ বিকাশ ঘটানোর উদ্দেশ্যে ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হবে।শিক্ষার ব্যক্তিতান্ত্রিক লক্ষ্যের মূল বৈশিষ্ট্য
শিক্ষার ব্যক্তিতান্ত্রিক লক্ষ্যের মূল বৈশিষ্ট্যগুলি হল –
- শিক্ষা হবে ব্যক্তির নিজস্ব আগ্রহ ও চাহিদা ভিত্তিক।
- ব্যক্তির অন্তর্নিহিত সম্ভাবনা গুলির পরিপূর্ণ বিকাশসাধন।
- উপযুক্ত শিক্ষা প্রদানের মাধ্যমে ব্যক্তি জীবনের উন্নয়ন ঘটানো।
- ব্যক্তির বিকাশের ক্ষেত্রে পূর্ণ স্বাধীনতা প্রদান, ইত্যাদি।
শিক্ষার ব্যক্তিতান্ত্রিক লক্ষ্যের সুবিধা ও অসুবিধা 👇
শিক্ষার ব্যক্তিতান্ত্রিক লক্ষ্যের সুবিধা
- শিক্ষার ব্যক্তিতান্ত্রিক লক্ষ্যে ব্যক্তি নিজস্ব চাহিদা, ইছা-অনিচ্ছা অনুযায়ী শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে।
- সহজেই ব্যক্তির সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটে।
- সামগ্রিক জীবনে ব্যক্তি পরিপূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করে।
শিক্ষার ব্যক্তিতান্ত্রিক লক্ষ্যের অসুবিধা বা ত্রুটি
- এই শিক্ষাব্যবস্থায় সমাজের চাহিদাগুলি একেবারেই অবহেলিত।
- এই শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যদিয়ে ব্যক্তির মধ্যে স্বৈরতান্ত্রিক মনোভাব জাগরিত হয়।
- এই শিক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে সমাজের উন্নতি সাধন সম্ভব নয়।
শিক্ষার সমাজতান্ত্রিক লক্ষ্য বলতে কি বোঝো ?
শিক্ষার সমাজতান্ত্রিক লক্ষ্য বলতে সেই ধরণের শিক্ষাব্যবস্থার কথা বোঝায়, যে শিক্ষাব্যবস্থা সমাজের সার্বিক উন্নয়নের উদ্দেশ্যে সমাজকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হবে।
শিক্ষার সমাজতান্ত্রিক লক্ষ্যের বৈশিষ্ট্য
- শিক্ষা পরিচালিত হবে সমাজের চাহিদা ও আশা–আকাঙ্খা ভিত্তিক।
- এই শিক্ষার দ্বারা ব্যক্তির সামাজিক গুণগুলির বিকাশ ঘটানো সম্ভব।
- রাষ্ট্রের কল্যাণ সাধনই হল এই শিক্ষা মূল লক্ষ্য।
- সামাজিক রীতিনীতি এবং রাষ্ট্রীয় আইনকানুন মেনে চলতে হয় অত্যন্ত কঠোরভাবে।
শিক্ষার সমাজতান্ত্রিক লক্ষ্যের সুবিধা ও অসুবিধা 👇
শিক্ষার সমাজতান্ত্রিক লক্ষ্যের সুবিধা
- শিক্ষার সমাজতান্ত্রিক লক্ষ্যে সমাজের চাহিদা, ইছা-অনিচ্ছাগুলির বিকাশ হয়।
- এই শিক্ষার মাধ্যমে সমাজের উন্নতি সাধন সম্ভব এবং এর ফলে অপেক্ষাকৃত শক্তিশালী হয়।
- ব্যক্তির সামাজিক গুণগুলির বিকাশ ঘটানো যায়।
শিক্ষার সমাজতান্ত্রিক লক্ষ্যের অসুবিধা বা ত্রুটি
- এই শিক্ষাব্যবস্থায় ব্যক্তির চাহিদা,ইচ্ছা-অনিচ্ছাগুলি একেবারেই অবহেলিত।
- এই শিক্ষাব্যবস্থায় ব্যক্তি স্বাধীনতা অত্যন্ত নগণ্য।
- এই শিক্ষাব্যবস্থায় আইন-শৃঙ্খলা অত্যন্ত কঠোর।
শিক্ষার ব্যক্তিতান্ত্রিক ও সমাজতান্ত্রিক লক্ষ্যের মধ্যে মতবিরোধ
শিক্ষার ব্যক্তিতান্ত্রিক লক্ষ্য ও সমাজতান্ত্রিক লক্ষ্যের মধ্যে সমন্বয় শিক্ষার লক্ষ্য শুধুমাত্র ব্যক্তিতান্ত্রিক না সমাজতান্ত্রিক হবে এই উভয় মতবাদে বিশ্বাসীগনের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। ব্যক্তিতান্ত্রিক মতবাদে বিশ্বাসীগন মনে করেন, শিক্ষার সমাজতান্ত্রিক লক্ষ্যে সামাজিক চাহিদা আশা-আকাঙ্খার উপর অত্যধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়, ব্যক্তি সেখানে অবহেলিত। অপরদিকে সমাজতান্ত্রিক মতবাদে বিশ্বাসীগন মনে করেন, শিক্ষার ব্যক্তিতান্ত্রিক লক্ষ্যে ব্যক্তির সার্বিক কল্যাণের উপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়, সমাজের কল্যাণ সেখানে অবহেলিত। সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে, উভয় লক্ষ্যের মধ্যেই কিছুনা কিছু ত্রুটি রয়েছে।
শিক্ষার ব্যক্তিতান্ত্রিক ও সমাজতান্ত্রিক লক্ষ্যের সম্পর্ক বা সমন্বয় সাধন
তবে বর্তমান শিক্ষাবিদগন এই লক্ষ্যদ্বয়ের সমন্বয় সাধনের মাধ্যমেই ত্রুটিগুলি দূর করার কথা বলেছেন। এই লক্ষ্যদ্বয়ের মধ্যে সমন্বয় সাধন কিভাবে সম্ভব তার পরিপ্রেক্ষিতে তারা যে দুটি যুক্তির অবতারণা করেছেন, তা হল নিম্নরূপ – প্রথমতঃ ব্যক্তির উপর সমাজের নির্ভরশীলতা – বর্তমান উন্নত দেশগুলির ইতিহাস পড়লে দেখা যাবে যে, সেই দেশগুলির উন্নতির পেছনে বিভিন্ন জ্ঞানীগুণী ব্যক্তি বিশেষ অবদান রয়েছে। বিজ্ঞানি, স্বাধীনতা সংগ্রামী ব্যক্তি, সাহিত্যিক, সমাজবিজ্ঞানী, শিক্ষাবিদ, দার্শনিক প্রমুখ বিশিষ্ট ব্যক্তিগনের সম্মিলিত প্রচেষ্টা সেই দেশগুলিকে উন্নতির শিখরে নিয়ে গিয়েছে। তাই বলা যায় কোন দেশের বা সমাজের সার্বিক উন্নয়ন মূলত ঐ দেশ বা সমাজের গুটিকয়েক বিশিষ্ট ব্যক্তির উপরই নির্ভর করে। দ্বিতীয়তঃ সমাজের উপর ব্যক্তির নির্ভরশীলতা - সমাজ মানুষের কাছে জল, বায়ু ও উত্তাপের মতই প্রয়োজন। অনুকূল সামাজিক পরিবেশ না পেলে একদিকে যেমন ব্যক্তির সর্বাঙ্গীণ বিকাশ ঘটানো সম্ভব হবে না অন্যদিকে ঠিক তেমনি প্রত্যেক ব্যক্তি যে সুপ্ত সম্ভাবনা নিয়ে জন্মায় সেগুলির যথাযথ বিকাশের সুযোগ তার পাবে না। তাই এই প্রসঙ্গে শিক্ষাবিদ জন ডিউই বলেছেন, ব্যক্তি তার জীবন বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় আহার ও উপকরণ সমাজ থেকেই সংগ্রহ করে, একক বিচ্ছিন্ন কল্পনা থাকলেও বাস্তবে তা কখনই সম্ভব নয়।
উপসংহার - সুতরাং উপরিউক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে একথাই বলা যায় যে, ব্যক্তির কল্যাণ যেমন সমাজ জীবনের উপর নির্ভরশীল, তেমনি সমাজের কল্যাণও ব্যক্তির উপর নির্ভরশীল। অর্থাৎ একটিকে বাদ দিয়ে অপরটির কল্যাণ কখনই সম্ভব নয়। তাই আধুনিক শিক্ষাবিদগন শিক্ষার লক্ষ্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে ব্যক্তি ও সমাজ উভয়ের উপরই সমান গুরুত্ব দিয়েছেন।
তথ্যসূত্র :
- ঘোড়াই নিমাই চাঁদ; উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবিজ্ঞান; ABS Publishing House
- ভট্টাচার্য দিব্যেন্দু, বর্মণ প্রনব; উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবিজ্ঞানের রূপরেখা; Nurture Publication
- ইসলাম নুরুল; উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবিজ্ঞান; শ্রীধর প্রকাশনী
বিশেষ দ্রষ্টব্য : লেখাটি আপনার পড়াশুনার ক্ষেত্রে কাজে লাগলে সোশ্যাল মিডিয়ায় অবশ্যই বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন। আর এই পোস্ট সম্পর্কিত আপনার কাছে নতুন কোনও তথ্য থাকলে কমেন্টের মাধ্যমে বা ইমেইল করে আমাদের জানান।

1 Comments
বেশ ভালো একটা নোট। ধন্যবাদ
ReplyDelete