Ad Code

Responsive Advertisement

Ticker

6/recent/ticker-posts

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা কমিশনের প্রস্তাবিত উচ্চশিক্ষার লক্ষ্যগুলি বর্ণনা করো

উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বিজ্ঞান পঞ্চম অধ্যায় (1948-1949)
রাধাকৃষ্ণান কমিশন বা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা কমিশন
    

    আজকের পোস্টে আলোচনা করা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী উচ্চ শিক্ষার লক্ষ্য। এই বিষয়টি দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষা বিজ্ঞান পঞ্চম অধ্যায়ে রয়েছে। এই অধ্যায় থেকে ৮ নম্বরের যে প্রশ্নটি উচ্চমাধ্যমিক ফাইনাল পরীক্ষায় আসতে পারে সে সম্পর্কে নিম্নে আলোচনা করা হল। 


বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা কমিশনের প্রস্তাবিত উচ্চশিক্ষার লক্ষ্যগুলি বর্ণনা করো

প্রশ্ন : বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা কমিশনের প্রস্তাবিত উচ্চশিক্ষার লক্ষ্যগুলি বর্ণনা করো।        (নম্বর -৮) 

অথবা, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী উচ্চ শিক্ষার লক্ষ্য গুলি লেখো।

    ভারত সরকার ১৯৪৮ সালে ৫ই নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার উন্নতির জন্য বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা কমিশন গঠন করেন। এই সভাপতি ছিলেন ডঃ সর্বপল্লি রাধাকৃষ্ণান। উচ্চশিক্ষার পর্যালোচনা করতে গিয়ে কমিশন যে সমস্ত দিকগুলির প্রতি সবিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন সেগুলি সম্পর্কে নিম্নে আলোচনা করা হল – 

১। নেতৃত্ব গ্রহণ ⇛ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হবে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নেতৃত্ব-দানের ক্ষমতা অর্জনে শিক্ষার্থীদের সমর্থ করে তোলা। উচ্চশিক্ষার শেষে এমন সব শিক্ষিত সম্প্রদায় তৈরি হবেন যারা ভবিষ্যতে দেশ ও জাতির প্রথম সারির নেতা হিসেবে পরিগণিত হবেন। 

২। কৃষ্টির সংরক্ষণ ⇛ উচ্চশিক্ষার আরেকটি লক্ষ্য হবে ভারতীয় সংস্কৃতি সম্পর্কে শিক্ষার্থীকে সচেতন করে তোলা এবং সংস্কৃতির সংরক্ষণ, উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে সঞ্চালন করা। 

৩। গণতান্ত্রিক চেতনার জাগরণ  উচ্চশিক্ষার পরিকাঠামো এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে যাতে শিক্ষার্থীর মধ্যে গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি অর্থাৎ ন্যায়বিচার, সাম্য, ভ্রাতৃত্ববোধ দিকগুলির বিকাশ ঘটে। 

৪। গুণগত মানোন্নয়ন ⇛ উচ্চশিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন করতে হবে। যাতে করে শিক্ষার্থীর বিভিন্ন দিকগুলির যথাযথ বিকাশ ঘটে। 

৫। সম্পদের যথাযথ ব্যবহার ⇛ উচ্চশিক্ষার অন্যতম আরেকটি লক্ষ্য হবে প্রাকৃতিক এবং মানব সম্পদের যথাযথ ব্যবহার করা। যার ফলস্বরূপ দেশ দ্রুতগতিতে উন্নতির দিকে এগিয়ে যাবে। 

৬। চারিত্রিক দৃঢ়তা ও মূল্যবোধ জাগরণ ⇛ উচ্চশিক্ষাক্ষেত্রকে এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যেন শিক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে চারিত্রিক দৃঢ়তা আসে এবং মূল্যবোধ জাগ্রত হয়। যার ফলস্বরূপ একটি সভ্য সুশীল সমাজ গড়ে উঠবে।

৭। প্রজ্ঞার অনুসন্ধান ⇛ উচ্চশিক্ষা কেন্দ্রগুলির কাজ শুধুমাত্র গতানুগতিক পুঁথিগত জ্ঞান দান করা নয়, জ্ঞানের রাজ্যে অভিযান চালিয়ে নতুন নতুন জ্ঞান অনুসন্ধান করার মধ্যদিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রজ্ঞার উন্মেষ সাধন করাই হবে উচ্চশিক্ষার আরেকটি অন্যতম লক্ষ্য। 

৮। বিজ্ঞান শিক্ষার সম্প্রসারণ ⇛ দেশকে অগ্রগতির উচ্চ শিখরে নিয়ে যাওয়ার জন্য বিজ্ঞান শিক্ষার সম্প্রসারণকে উচ্চশিক্ষার একটি মুখ্য লক্ষ্য হিসেবে কমিশন মনে করেন। 

৯। ধর্মশিক্ষা ও নীতিশিক্ষা ⇛ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আধ্যাত্মিক দিক বিকাশের জন্য কমিশন উচ্চশিক্ষার লক্ষ্য হিসেবে ধর্মশিক্ষা ও নীতিশিক্ষা প্রদানের কথাও বলেছেন। 

১০। জাতীয় সংহতি ও আন্তর্জাতিকতাবোধ গঠন ⇛ উচ্চশিক্ষার প্রতিষ্ঠানগুলিতে শিক্ষা প্রদানের আরেকটি লক্ষ্য হল শিক্ষার্থীদের মধ্যে জাতীয় সংহতি এবং আন্তর্জাতিকতাবোধ গড়ে তোলা। 

উপসংহার ⇛ উপরিউক্ত আলোচনা পরিশেষে একথাই বলা যায় যে, উন্নয়নশীল ভারতবর্ষকে উন্নত ভারতবর্ষ হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা কমিশনের উচ্চশিক্ষার উক্ত লক্ষ্যগুলি ছিল এক প্রগতিশীল, বাস্তবধর্মী এবং যুগোপযোগী প্রস্তাব, যা আজও প্রযোজ্য, প্রয়োগযোগ্য এবং কাম্য। 

তথ্যসূত্র : 

  • ঘোড়াই নিমাই চাঁদ; উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবিজ্ঞান; ABS Publishing House
  • ভট্টাচার্য দিব্যেন্দু, বর্মণ প্রনব; উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবিজ্ঞানের রূপরেখা; Nurture Publication
  • ইসলাম নুরুল;  উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবিজ্ঞান; শ্রীধর প্রকাশনী

বিশেষ দ্রষ্টব্য : লেখাটি আপনার পড়াশুনার ক্ষেত্রে কাজে লাগলে সোশ্যাল মিডিয়ায় অবশ্যই বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন। আর এই পোস্ট সম্পর্কিত আপনার কাছে নতুন কোনও তথ্য থাকলে কমেন্টের মাধ্যমে বা ইমেইল করে আমাদের জানান।

সতর্কবাণী : অ্যাডমিনের অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের যেকোনো লেখা কপি-পেস্ট করে অন্য কোনো ব্লগ, সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা এমনকি ছাপানোও নিষেধ। অন্যথায় আইনত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Post a Comment

0 Comments

Ad Code

Responsive Advertisement